• ই-পেপার

তাড়াশে আ. লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টে বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ৭

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টে বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ৭
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা তালতলা এলাকায় একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় সাত শ্রমিক আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে পাগলা তালতলা এলাকার নির্ঝর নিটওয়্যার গার্মেন্টে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম।

আহতরা হলেন- শাহীন, জাকির হোসেন, ক্লিনার সাবিনা বেগম, মঞ্জু মিয়া, আরিফিন, হৃদয় ও খাদিজা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার বয়লারটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এ বিষয়ে মালিকপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুক্রবার সকালে শ্রমিকরা কাজ করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বয়লারটি বিস্ফোরিত হয়। এতে আগুন ধরে যায় এবং নারী শ্রমিকসহ সাতজন দগ্ধ ও আহত হন।

ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিক ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহনের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

ভালুকায় ৪০ লিটার মদসহ কারবারি গ্রেপ্তার

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ভালুকায় ৪০ লিটার মদসহ কারবারি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় ৪০ লিটার দেশীয় মদসহ মো. বাবুল শেখ (৪০) নামে এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  শুক্রবার (১৯ জুন) মাদক আইনে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে গতকাল বৃহষ্পতিবার মাসজিদ মার্কেট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুল শেখ উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের ধামশুর পশ্চিমপাড়ার মুনসুর আলীর ছেলে। 

থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সাংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার হাজির বাজার মসজিদ মার্কেটে মাদক বিক্রির খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় মাকদকারবারি মো. বাবুল শেখকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৪০ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাইদুর নামের অপর এক কারবারি পালিয়ে যান।  

ভালুকা মডেল থানার এসআই মোশারফ হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় মাদকের কারবার করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

‘ভারতে প্রবেশের পর থেকে’ নিখোঁজ ডিপজল

অনলাইন ডেস্ক
‘ভারতে প্রবেশের পর থেকে’ নিখোঁজ ডিপজল
সংগৃহীত ছবি

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ডিপজল আহমদ (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক। নিখোঁজের তিন দিন পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এ ঘটনায় পতাকা বৈঠক করেছে। তবে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকেও নিখোঁজ যুবকের বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি বিএসএফ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এর আগে, সোমবার (১৫ জুন) রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের বাসিন্দা ডিপজল আহমদসহ কয়েকজন যুবক ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে অন্যরা বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও ডিপজল নিখোঁজ হন।

স্থানীয়দের দাবি, বিএসএফের গুলিতে ডিপজল নিহত হয়েছেন। তবে বিএসএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করছে। তারা জানান, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভারতের এক নাগরিককে সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। পরে বুধবার (১৭ জুন) বিজিবির মাধ্যমে তাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকটি আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে কোনো গুলির ঘটনা কিংবা ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। ডিপজলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিএসএফও বিষয়টি অনুসন্ধান করবে।’

বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী (টিপু) বলেন, ‘বিজিবির সঙ্গে বৈঠকের পরও বিএসএফ কোনো তথ্য দেয়নি। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে আমাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আগামীকাল স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।’

জকিগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘স্থানীয়দের কাছ থেকে এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যার দাবির কথা শোনা গেলেও এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।’

কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ৩

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে তরিকুল ইসলাম পবন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় নিহতের বান্ধবীর ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন, একটি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং ঘটনার কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক) মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তাররা হলেন- রাজু আহম্মেদ ওরফে লাল চাঁন (৩২), সজীব মৃধা (২৮) ও জিহাদ মিয়া (২১)।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে মাওয়া যাওয়ার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারের ওপর পবন ও তার বান্ধবী লামিয়া আক্তার বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিন ছিনতাইকারী তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পবনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে লামিয়ার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা তার ভ্যানিটি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় পবনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘটনার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষনে শুভাঢ্যা ও আগানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা নিয়মিত চুনকুটিয়া বেবি স্ট্যান্ড এলাকায় আড্ডা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করত। দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুবিধা থাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ছিনতাইয়ের জন্য বেছে নেয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।’