• ই-পেপার

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর যমুনায় বিলীন চকরতিনাথ স্কুলের পাশে উপজেলা প্রশাসন

মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে আশুগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে আশুগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকায় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে চর সোনারামপুর এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা প্রথমে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল আশুগঞ্জ বাজার প্রদক্ষিণ করে আশুগঞ্জ গোলচত্বরে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চর সোনারামপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বসতভিটা, ফসলি জমি ও আশপাশের জনপদ হুমকির মুখে পড়েছে। তারা অবিলম্বে ড্রেজার অপসারণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান।

খবর পেয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া, আশুগঞ্জ থানা পুলিশ এবং খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের দেওয়ান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

কেরানীগঞ্জে শ্রমিক-চালকদের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ১০

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে শ্রমিক-চালকদের সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ১০
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঘাটারচর এলাকায় স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি হারানো ও চালককে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের ও চালকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শ্রমিক ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুসসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার মধ্যরাতে রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ঘাটারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালেও স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ের সামনে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। বিচার দাবিতে অনেক শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে সড়কে অবস্থান নেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের চালক শাহ আলম একটি গাড়ি নিয়ে ঘাটারচর এলাকা থেকে বের হন। পথে নাস্তা করতে গিয়ে গাড়িটি হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি কোম্পানির কার্যালয়ে গিয়ে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গাড়িটি শনাক্ত করার অনুরোধ করলে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা তার কথা বিশ্বাস না করে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও চালকরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার  চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস, এসআই মামুন, মোহাম্মদ সোহাগ, কনস্টেবল জয়নাল, পথচারী ও শ্রমীকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শ্রমিক প্রতিনিধি আনোয়ার ও চালক রুবেল বলেন, ‘চালক শাহ আলমের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনেক শ্রমিক কাজে ফিরবেন না।’

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায়  আমিসহ এসআই মামুন,সোহাগ ও কনস্টেবল জয়নাল, শ্রমিক ও পথচারী মিলিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় চালক শাহালমের স্ত্রী ময়না আক্তার বাদী হয়ে ও আটি পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. জলিল বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।’

মেঘনা থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
মেঘনা থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
আশুগঞ্জে মঙ্গলবার অবরোধের কারণে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রায় ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। কয়েক শ লোক সড়ক অবরোধ করলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভকারীরা প্রথমে চর সোনারামপুর এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে আশুগঞ্জ বাজার প্রদক্ষিণ করে আশুগঞ্জ গোলচত্বরে এসে পৌঁছায়। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চর সোনারমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদী ভাঙনের আশঙ্কা বেড়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বসতভিটা, ফসলি জমি এবং আশপাশের জনপদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তারা অবিলম্বে ড্রেজার অপসারণ এবং অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের দাবি জানান। খবর পেয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া, আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বললে তারা সরে যান। এরই মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যানজট দেখা দেয়।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু তাহের দেওয়ান জানান, খবর পেয়ে তারা সেখানে ছুটে যান এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
 

গাজীপুর

সন্তানদের জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
সন্তানদের জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরে দুই সন্তানকে জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কাইয়ুম মীর (৪৬) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী (৩৪) বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত কাইয়ুম মীর সদর উপজেলার ধলিপাড়া গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেন মীর বাদলের ছেলে। তিনি ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ২৪ জুন রাতে ১৩ বছরের মেয়ে এবং ৪ মাসের শিশুপুত্রকে নিয়ে ঘরে শুয়েছিলেন তিনি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্ত কাইয়ুম নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে দাবি করেন, রাজনৈতিক মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে এসেছে। তিনি পালিয়ে এসেছেন। ওই রাতে তার ঘরে আশ্রয় চান। স্বামী প্রবাসে থাকায় রাজি হননি তিনি। অনেক অনুনয়-বিনয় করার পর মানবিক কারণে তাকে ঘরে আশ্রয় দেন ভুক্তভোগী। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত তাকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে ঘরে থাকা একটি ধারালো বঁটি ভুক্তভোগীর ৪ মাস বয়সী শিশুপুত্রের গলায় ধরে তাকে হত্যা এবং ১৩ বছর বয়সী মেয়ের ক্ষতি করার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে সন্তানদের প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন কৃষক লীগের ওই নেতা।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কাইয়ুম মীরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।