• ই-পেপার

হাসপাতালে কোনো অনিয়ম-অবহেলা বরদাশত করা হবে না : জালাল উদ্দীন

সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত যাবে রেল : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত যাবে রেল : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

সিলেট থেকে গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘চলতি মাসের মধ্যেই রেলওয়ে প্রকৌশলীরা সিলেট এসে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন।’

বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরের পূর্ব জিন্দাবাজারে একটি ফল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত ওয়াগন (ট্রেনের পণ্যবাহী কোচ) চালু হলে জাফলং-সিলেট রুটে সহজে ও কম খরচে পণ্য আনা নেওয়া করা যাবে। এ ছাড়া পর্যটকসহ যাত্রীরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।’ 

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত শেষ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের সমস্যার কারণে এই সড়কের কাজ আটকে ছিল। সার্ভেয়ার সংকটের কারণে ভূমি অধিকরণ কাজে দেরি হচ্ছিল। সম্প্রতি আমি ভূমি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সিলেটে ৬ জন সার্ভেয়ার নিয়োগের ব্যবস্থা করেছি। এখন আর সার্ভেয়ারের দোহাই দেওয়া যাবে না। আশা করছি, দ্রুতই ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ পুরোদমে শুরু হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জের যেকোনো জায়গায় একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। এটি নির্মাণ করা গেলে পুরো সিলেটবাসী উপকৃত হবে।’

জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দিসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্রুতই এ কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়নেও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষক সংকট দূর করতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

দাওয়াত খেতে যাওয়া হলো না বাবা-ছেলের, ট্রাকচাপায় গেল প্রাণ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
দাওয়াত খেতে যাওয়া হলো না বাবা-ছেলের, ট্রাকচাপায় গেল প্রাণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দাওয়াত খেতে যাওয়ার সময় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে সাত বছরের নাতি। তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মানদ্রাইন এলাকার নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫)। প্রশান্ত চন্দ্র রায় পেশায় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন। আহতের নাম বন্ধন চন্দ্র রায় (৭)। সে নির্মল চন্দ্রের নাতি। বর্তমানে সে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়রা জানায়, নির্মল চন্দ্র রায়, তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় এবং নাতি বন্ধন চন্দ্র রায় মোটরসাইকেলযোগে তুলশীহাটে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। পথে মন্থনা বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রশান্ত চন্দ্র রায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তার বাবা নির্মল চন্দ্র রায়কে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিশু বন্ধন চন্দ্র রায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছবুর জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছে। তবে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান ওসি।

চট্টগ্রামে এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৩৪০ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে এইচএসসির প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৩৪০ শিক্ষার্থী
সংগৃহীত ছবি

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৪০ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭৩ হাজার ৮৬৩ জন। এরমধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৭২ হাজার ৫২৩ জন। এই হিসেবে প্রথম দিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর হার ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। 

তিনি বলেন, বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রামসহ ৫ জেলায় ১১৪টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কোনো বহিষ্কার নেই। অনুপস্থিত ছিল ১ দশমিক ৮১ শতাংশ ছাত্রছাত্রী।  

তিনি আরো জানান, ১৫টি সাধারণ ভিজিল্যান্স টিম এবং ৮টি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। 

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে জানানো হয়, এই বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মোট ২৮৩টি কলেজের এবার মোট পরীক্ষার্থী ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ১১ হাজার ২৫৫ জন ছাত্র ও ১২ হাজার ৬৪৮ জন ছাত্রীসহ মোট পরীক্ষার্থী ২৩ হাজার ৯০৩ জন; মানবিক বিভাগে ৪৪ হাজার ২৩৮ জন (ছাত্র ১৬ হাজার ৩৪২ জন ও ২৭ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্রী); ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৫ হাজার ৫৮৫ জন ছাত্র এবং ১৫ হাজার ৯৫৪ জন ছাত্রীসহ মোট ৩১ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থী; গাহর্স্থ্য বিভাগে ৮ জন ছাত্রী। 

অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার পরীক্ষার্থী ৭০ হাজার ৯৭৪ জন; কক্সবাজার ১২ হাজার ২৫৫; রাঙামাটি জেলায় ৫ হাজার ৪৩৯; খাগড়াছড়িতে সাত হাজার ৩৫৩ জন; বান্দরবান জেলায় তিন হাজার ৬৬৭ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।

আগৈলঝাড়ায় রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
আগৈলঝাড়ায় রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট বাসাইল গ্রামে পূর্বশত্রুতার জের ধরে জহিরুল শিকদার (৩৯) নামের এক যুবককে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। নিহত উপজেলার ছোট বাসাইল গ্রামের আব্দুর রশিদ  শিকদারের ছেলে।

এ ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার দুজন আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট বাসাইল গ্রামের আব্দুর রশিদ শিকদারের ছেলে জহিরুল শিকদারের সঙ্গে একই এলাকার আনিচ শিকদারের ছেলে সিন্টু শিকদার, শান্ত শিকদার ও জাহাঙ্গীর শিকদারের ছেলে জুয়েল শিকদারদের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। ওই শত্রুতার জের ধরে বুধবার সকাল ১১টায় উভয় পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়। পরে বুধবার রাতে জহিরুলকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী মনি বেগম বাদী হয়ে সেন্টু শিকদারকে এক নম্বর আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখপূর্বক থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

নিহতের বড় ভাই এনামুল শিকদার বলেন, ‘আমার ভাইকে আসামিরা রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে রাস্তার ওপরে ফেলে রেখে যায়। ওই দিন সকালে ঝামেলা হয়েছিল তা স্থানীয়রা মীমাংসা করে দেন। কিন্তু রাতেই তারা আমার ভাইকে ওরা হত্যা করেছে।’

নিহত জহিরুলের স্ত্রী মনি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে একই এলাকার সেন্টু শিকদার, শান্ত শিকদার, জাহাঙ্গীর শিকদার ও জুয়েল শিকদার রাতে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। আমি এই হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমার স্বামীর কি অপধার ছিল? কেন তাকে হত্যা করা হলো?’

আগৈলঝাড়া থানা ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, ‘নিহত জহিরুলের স্ত্রী মনি বেগম বাদী হয়ে চারজনের নামে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত ছোট বাসাইল গ্রামের আনিচ শিকদারের ছেলে শান্ত শিকদার (২২) ও মৃত চান্দু শিকদারের ছেলে জাহাঙ্গীর শিকদারকে (৫৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।’