• ই-পেপার

ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে ঘুষ নেওয়া সেই কর্মকর্তা প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বেইজিং যাচ্ছেন আরো দুই মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বেইজিং যাচ্ছেন আরো দুই মন্ত্রী

চীনে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে বেইজিং যাচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে তারা ঢাকা থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সফরকালে দুই মন্ত্রী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও ইস্যুতে অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে তিনজন পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। তারা হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং পানিসম্পদমন্ত্রী।

বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেট ও তামাকপণ্যের মূল্য পুনর্বিবেচনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেট ও তামাকপণ্যের মূল্য পুনর্বিবেচনার দাবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেট ও ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর ও মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি আরও কার্যকরভাবে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তামাকবিরোধী নারী সংসদ সদস্য ফোরামের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে অনুষ্ঠিত এক ‘বাজেট-পরবর্তী আলোচনা’ সভায় নারী সংসদ সদস্যরা এই দাবি জানান। তামাকবিরোধী নারী সংসদ সদস্য ফোরাম ও ‘নারী মৈত্রী’ যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য পূরণে তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও করহার আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ, তামাকের ব্যবহার কমাতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে কার্যকর কর বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী একটি স্বীকৃত ও পরীক্ষিত পন্থা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা কর আহরণ সহজীকরণের জন্য বাজারে বিদ্যমান সিগারেটের স্তর চারটি থেকে নামিয়ে তিনটিতে আনার প্রস্তাব করেছিলেন। নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম কাছাকাছি হওয়ায় একটির দাম বাড়লে ভোক্তা অন্য স্তরটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। এই প্রবণতা বন্ধে দুটি স্তরকে একত্রিত করে ১০ শলাকার এক প্যাকেটের দাম ১০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে সব স্তরের সিগারেটের ওপর বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা হারে সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবি জানানো হয়েছিল।

কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার সিগারেটের মূল্য যৎসামান্য বাড়িয়েছে। নিম্ন স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে মাত্র ৬২ টাকা করা হয়েছে। অথচ বাজারে মোট বিক্রিত সিগারেটের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের।

নারী সংসদ সদস্যরা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ৬২ টাকা নির্ধারণ করায় প্রতি শলাকার দাম পড়ে ৬ টাকা ২০ পয়সা। কিন্তু বাস্তবে দেশের খুচরা বাজারে এই সিগারেট আগেই প্রতি শলাকা ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। ফলে তামাক কোম্পানিগুলো আগের দামেই বিক্রি করলেও প্রতি শলাকায় ৮০ পয়সা করে করমুক্ত অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেবে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের হিসাব উল্লেখ করে সভায় জানানো হয়, দেশে ওই অর্থবছরে শুধু নিম্নস্তরের সিগারেটই বিক্রি হয়েছে ৬৮ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন শলাকা। এই বিপুল পরিমাণের বিপরীতে প্রতি শলাকায় ৮০ পয়সা মুনাফা হিসাব করলে তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। কর কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে সরকার এই বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে এবং তা সরাসরি তামাক কোম্পানির পকেটে যাবে।

বাজেটে নিকোটিন পাউচ এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসের ওপর সম্পূরক কর আরোপের সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, এর মাধ্যমে মূলত ক্ষতিকর নতুন এসব পণ্যকে আইনি বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে নতুন করে নিকোটিনের আসক্তি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হবে।

সভায় জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের প্রস্তাব আমলে নিয়ে বাজেট সংশোধন করা হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবেন, ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪ লাখ অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

তামাকবিরোধী নারী সংসদ সদস্য ফোরামের সহসভাপতি রাশেদা বেগম হীরার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমীন, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, ফেরদৌসী আহমেদ, জহরত আদিব চৌধুরী, শওকত আরা আক্তার, রেজেকা সুলতানা, নাদিয়া পাঠান পাপন, মমতাজ আলো, সেলিনা সুলতানা এবং সুরাইয়া জারিন। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি।

পানিসংকট মোকাবেলায় এশিয়ার সব দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্পিকারের

অনলাইন ডেস্ক
পানিসংকট মোকাবেলায় এশিয়ার সব দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্পিকারের

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ পানি সংকট সমাধানের লক্ষ্যে এশিয়ার সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) এশিয়া ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ওয়াটার কনসালটেটিভ বোর্ডের (AAWC) জেনারেল সেক্রেটারি হা সাং জের নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।

স্পিকার বলেন, পানি সমস্যা এতটাই তীব্র যে, বাংলাদেশসহ কোনো কোনো দেশের জন্য এটি জীবন-মরণ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এ সংকট আরো মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে স্বাধীনতার পর থেকেই আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।

এ সময় হা সাং জে জাতীয় সংসদের সদস্যদের AAWC-এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে বৈশ্বিক পানি সংকট সমস্যা সমাধানে স্পিকারের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি ২০২৬ সালে লাওসে AAWC-এর বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য স্পিকারকে আমন্ত্রণ জানান।

মন্ত্রীদের সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ নেই : স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মন্ত্রীদের সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ নেই : স্পিকার
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। এ বিষয়ে তিনি সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কোনো কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে।’

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখতে শুরু থেকেই স্পিকার সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, কোনো মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা দায়িত্বশীল প্রতিনিধি সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকেন না। সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। সেসব কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সরাসরি শোনা প্রয়োজন। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা যদি নিয়মিত উপস্থিত না থাকেন, তাহলে সংসদীয় আলোচনার কার্যকারিতা কমে যায়।

বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অধিবেশন চলাকালে কখনো কখনো কয়েকজন সদস্যকে ছোট ছোট দলে আলাদা আলোচনা করতে দেখা যায়। এতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুসরণ করতেও অন্য সদস্যদের অসুবিধা হয়। 

তিনি আরো বলেন, একদিকে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, অন্যদিকে কয়েকজন মিলে আলাদা বৈঠকের মতো পরিবেশ তৈরি করছেন। এটি সংসদের শৃঙ্খলা ও ডিসেন্সির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকারসহ নানা খাত নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থেকে বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। আমি আবারও তাগিদ দিচ্ছি, কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। মন্ত্রীদের উচিত, যথাসময়ে সংসদে উপস্থিত থাকা এবং তাদের মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা। পাশাপাশি সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও চেষ্টা করা উচিত।’

সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, তিনি মাঝেমধ্যে ছোট ছোট গ্রুপে আলোচনা এবং আসন ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কথাবার্তা বলতে দেখেন। এমনকি কয়েকবার ‘ফ্লোর ক্রসিং’-এর ঘটনাও তার নজরে এসেছে। সংসদের ভেতরে গ্রুপভিত্তিক আলোচনা পরিহার করুন। যতটা সম্ভব নিজ নিজ আসনে বসে কার্যক্রমে অংশ নিন এবং আলোচনাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন। সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পয়েন্ট অব অর্ডার নিষ্পত্তির পর স্পিকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। প্রথমে বক্তৃতা করেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আইনুল হক।