• ই-পেপার

আগামী চার বছরেও কেউ ভাঙতে পারবে না ব্রাজিলের এই বিশ্বরেকর্ড

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘তামাশা’ বললেন জার্মান কোচ, শিয়েরারের চোখে ‘ভয়ংকর’

ক্রীড়া ডেস্ক
গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘তামাশা’ বললেন জার্মান কোচ, শিয়েরারের চোখে ‘ভয়ংকর’
জার্মান ডিফেন্ডার টাহর এই গোলটি বাতিল করেন রেফারি জালাল। ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের তখন ১০২ মিনিট। ১-১ সমতা শেষে অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছিল তখন। সে সময় ডিফেন্ডার নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে জার্মানিকে আনন্দে ভাসালেন জোনাথন টাহ। ভেসে আসা বলে হেড দিয়ে। 

বল জালে জড়ানোর পর জার্মানদের তখন আনন্দের শেষ নেই। ডিফেন্ডার অ্যান্টোনি রুডিগার তো সতীর্থ টাহকে উচ্ছ্বাসে ঘাঁড়ে তুলে নিলেন। নেওয়াটাই স্বাভাবিক। বাকি ৮ মিনিট কোনোরকম শেষ করতে পারলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত জার্মানির। 

কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই উল্টো চিত্র দেখল জার্মানি। ভিএআরের কারণে বুনো উল্লাসটা পূর্ণতা পেল না। মনিটরে দেখার পর টাহর গোল বাতিল করেন মরক্কোর রেফারি জালাল জায়েদ। গোল বাতিলে কারণ হিসেবে রেফারি জানান, টাহ হেড নেওয়ার আগে তার সতীর্থ ভালডেমার আন্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো হিলেকে ফাউল করেন। 

গোল বাতিলের পর পরে টাইব্রেকারে ম্যাচ হারে জার্মানি। সাডেন ডেথে জার্মানির হয়ে শেষ শটটি বারের ওপর দিয়ে মারেন টাহ। তাতে জিতে যায় প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে নায়ক হওয়ার বিপরীতে খলনায়ক হয়ে থাকলেন জার্মানির ডিফেন্ডার।

তবে ম্যাচ শেষে গোল বাতিল হওয়া মানতে পারেননি ইউলিয়ান নাগেলসমান। ৩৮ বছর বয়সী কোচের মতে, এটা তামাশা ছিল। এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম বয়সী কোচ বলেছেন, ‘আমার মতে, ফাউলটা মোটেও আসল ফাউল ছিল না। গোল বাতিল করাটা তামাশা ছাড়া আর কিছু ছিল না।’ গোলটি বাতিলের সময় প্রতিবাদ করায় সে সময় হলুদ কার্ড দেখেন নাগেলসমান।

জার্মান কোচের সুরেই অনেকটা কথা বলেছেন অ্যালান শিয়েরার। ইংল্যান্ডের ফুটবল কিংবদন্তির মতে, সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বাজে ছিল। বিবিসি ওয়ানকে তিনি বলেছেন, ‘সিদ্ধান্তটির সঙ্গে আমি বিন্দুমাত্র একমত নই। সামান্য স্পর্শেই গোলরক্ষক মাটিতে পড়ে গেল। এটা খুবই হালকা ফাউল ছিল। আমার মতে, এটা অত্যন্ত ভয়ংকর সিদ্ধান্ত ছিল। আপনাকে বুঝতে হবে এটা শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। গোলরক্ষক আসলে রেফারি এবং ভিএআরকে ধোঁকা দিয়েছে। তার মাটিতে পড়ে যাওয়ার ধরণ সত্যি করুণ ছিল।’

নকআউট পর্বের আগে বিশাল সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
নকআউট পর্বের আগে বিশাল সুখবর পেল আর্জেন্টিনা
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে বড় এক স্বস্তির খবর পেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। হাঁটুর চোট কাটিয়ে অবশেষে দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন রক্ষণভাগের অতন্দ্রপ্রহরী ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে শেষ ষোলোর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষেই মাঠে নামতে প্রস্তুত এই সেন্টার ব্যাক।

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে টুর্নামেন্টের চমক জাগানো দল কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। নকআউটের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে রোমেরোর দলে ফেরা কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য এক বিরাট স্বস্তির নাম। শতভাগ ফিট থাকলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুরু থেকেই রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে দেখা যেতে পারে ২৮ বছর বয়সী এই তারকাকে। 

এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই ডিফেন্ডার। চোটের তীব্রতায় জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটিতে সাইডবেঞ্চে বসেই কাটাতে হয় তাকে। রোমেরোর অনুপস্থিতিতে রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওটামেন্ডিকে নামিয়েছিলেন স্কালোনি। অবশ্য জর্ডানকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

জর্ডান ম্যাচ শেষেই অবশ্য স্কালোনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে নকআউট পর্বের আগেই রোমেরোকে ফিরে পাবেন তিনি। কোচের সেই আশাই এখন বাস্তবে রূপ নিল। সোমবার (২৯ জুন) ক্যানসাস সিটিতে এক দিনের বিশ্রামের পর দলের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলনে যোগ দেন রোমেরো। অনুশীলনে তাকে চেনা ছন্দেই দেখা গেছে, যা তার দ্রুত সেরে ওঠারই বড় প্রমাণ।

ব্রাজিলের মিডফিল্ডের ‘ভরসা’কে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিলের মিডফিল্ডের ‘ভরসা’কে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
ছবি : রয়টার্স

জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। মাঠের পারফরম্যান্সে সেলেসাও-ভক্তদের মুখে হাসি ফুটলেও, সেই আনন্দের আড়ালে হানা দিয়েছে একরাশ দুশ্চিন্তা। দলের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা লুকাস পাকেতা পড়েছেন চোটে। নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই মিডফিল্ডারকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ব্রাজিলশিবিরে।

হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। প্রতিপক্ষের অর্ধে বল নিয়ে আক্রমণের ঝড় তোলার মুহূর্তে হঠাৎ ডান ঊরুতে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন পাকেতা। মাঠেই তাকে অস্বস্তিতে ভুগতে দেখে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি সেলেসাওদের অভিজ্ঞ ডাগআউট মাস্টার কার্লো আনচেলত্তি। বিরতির পরপরই পাকেতাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় তরুণ তুর্কি এন্দ্রিককে।

ম্যাচ শেষে ব্রাজিল শিবিরের দুশ্চিন্তার পারদ আরো বাড়িয়ে দেয় পাকেতার স্টেডিয়াম ছাড়ার দৃশ্য। ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় স্পষ্ট খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন এই তারকা। চোটের গভীরতা ঠিক কতটা, তা নিশ্চিত হতে মঙ্গলবার তার শরীরে বিস্তারিত মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। সেই রিপোর্টের ওপরই ঝুলে আছে শেষ ষোলোর অগ্নিপরীক্ষায় পাকেতার মাঠে নামার ভাগ্য।

তবে মাঠের বাইরে চলে গেলেও সতীর্থদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে ভোলেননি এই মিডফিল্ডার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টে পাকেতা লিখেছেন, ‘পরিস্থিতি যেটাই হোক না কেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা এক হয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।’

এদিকে নকআউটের টিকিট হাতে পাওয়া ব্রাজিল এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে নরওয়ে ও আইভোরি কোস্টের মধ্যকার ম্যাচের দিকে। মঙ্গলবার রাতের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষেই আগামী রবিবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

আমরা ব্রাজিলিয়ানরাও বাংলাদেশকে ভালোবাসি : আলিসন বেকার

ক্রীড়া ডেস্ক
আমরা ব্রাজিলিয়ানরাও বাংলাদেশকে ভালোবাসি : আলিসন বেকার
ছবি : রয়টার্স

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল হিসেবে অংশ না নিলেও, দর্শক হিসেবে পুরো টুর্নামেন্টেই যেন এক অতিপরিচিত নাম। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল ম্যাচ শেষ হতেই এ দেশের সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস নিয়মিত জায়গা করে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে।

বাংলাদেশিদের এই ফুটবলপ্রেম আর দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা এবার সরাসরি পৌঁছে গেছে খোদ মাঠের তারকাদের কাছেও। আর্জেন্টিনার ‘বাজপাখি’খ্যাত গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের পর এবার বাংলাদেশকে নিয়ে নিজের হৃদয়ের আবেগ প্রকাশ করলেন ব্রাজিলের অতন্দ্রপ্রহরী আলিসন বেকারও।

গত রাতে শেষ ৩২-এর এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেয় সেলেসাওরা। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন ক্যাসেমিরো। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে ক্যাসেমিরো বাংলাদেশকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

তবে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মূল চমকটি উপহার দিয়েছেন লিভারপুল তারকা আলিসন বেকার। টি স্পোর্টসের ক্যামেরার সামনে আলিসন বলেন, ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ, আমাদের এভাবে সমর্থন দেওয়ার জন্য। আমি বেশ কিছু (উল্লাসের) ভিডিও দেখেছি। বাংলাদেশের মানুষদের আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। ব্রাজিলিয়ানরাও বাংলাদেশকে ভালোবাসে। এত ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা। ঈশ্বর আপনাদের মঙ্গল করুক।’

এর আগে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও বাংলাদেশের এই আকাশি-সাদা উন্মাদনা নিয়ে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করেছিলেন। জর্দানের বিপক্ষে ম্যাচের পর মার্তিনেজ স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি। আমি সেখানে সশরীরে গিয়েছি এবং দেখেছি তারা আমাদের জন্য কতটা পাগল। বাংলাদেশের সবার জন্য আমার অনেক অনেক ভালোবাসা।’

টুর্নামেন্টের সমীকরণে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা ব্রাজিলের পরবর্তী প্রতিপক্ষ নরওয়ে অথবা আইভরিকোস্ট। অন্যদিকে শেষ ৩২-এর বৈতরণী পার হতে আগামী ৪ জুলাই কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।