খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা কুমিরটি স্বাভাবিক ও সুস্থ রয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রই রাখা হচ্ছে স্বাদু পানির কুমিরটিকে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কোনো মান-অভিমান বা কাকতালীয় নয়, সরীসৃপ প্রজাতির কুমিরের শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে দীর্ঘসময় অনাহারে থাকা স্বাভাবিক। শুধু ১৯ বা ২০ দিনই নয়, নিজের শরীরে জমানো খাবারের মাধ্যমে এক বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে তারা।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ, বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারে শিশু ফাতেমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত ৩ জুন কুমিরটিকে খুলনায় আনা হয়। সেই সময় থেকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কুমিরটিকে পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যা করছে। তবে সেই সময় থেকে তাকে (কুমির) মুরগি ও হাঁসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার দেওয়া হলেও প্রাণীটি তা গ্রহণ করেনি। তবে খাবার প্রবণতা দেখাচ্ছে কুমিরটি। তবে মুখে খাবার তোলেনি।
বনবিভাগ জানিয়েছে, মিঠা পানির অর্ধশত বছর বয়সী কুমিরটি অত্যন্ত মোটা (ফ্যাটি)। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি। সরীসৃপ প্রাণী হওয়ায় এটি পানি ও ডাঙা উভয় স্থানে চলাফেরা করলেও অতিরিক্ত মোটা হওয়ার কারণে মাটিতে বেশি হাঁটতে পারছে না।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনার (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাগেরহাট থেকে আনা কুমির স্বাভাবিক রয়েছে। সরীসৃপ প্রাণীর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী একবার খেলে দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকতে পারে। এটি শুধু মাস নয়, এক বছরও হতে পারে। তাই এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।’
নির্মল কুমার বলেন, কুমিরটি খাঁচায় দেওয়া মুরগি শিকার করে মেরে ফেলছে। তবে বাগেরহাট থেকে খুলনায় আনার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো খাবার সাবাড় করেনি। এটি অস্বাভাবিক নয়। খাবার না খেলেও কুমিরটির সুরক্ষায় কোনো ঘাটতি নেই। অ্যানিমেল কিপার ও জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউটরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রাণীটির সেবা-যত্ন নিচ্ছেন। কুমিরটির থাকার পানি প্রতিদিন পরিবর্তন ও গরম লাগলে তার শরীরে ফ্রেশ পানি স্প্রে করা হচ্ছে।
বনবিভাগের এই কর্মকর্তা জানান, বনবিভাগ মানুষ ও কুমির উভয়ের নিরাপত্তার বিষয়টি সমান গুরুত্বপূর্ণ। কুমিরটি মাঝেমধ্যেই দীঘি থেকে লোকালয়ে চলে যেত। এতে যেমন মানুষের ওপর আক্রমণের ঝুঁকি থাকে, তেমনি ক্ষুব্ধ জনতা কুমিরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলার আশঙ্কাও থাকে। মানুষের নিরাপত্তা এবং কুমিরের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত সাপেক্ষে মাজার কমিটি চাইলে কুমিরটি আবারও দীঘিতে ফেরত যেতে পারে।
নির্মল কুমার বলেন, মাজার কমিটি যদি আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে উভয়পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আমাদের জানায়- তবে কুমিরটি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





