• ই-পেপার

কিয়েভে বিভীষিকার রাত, রাশিয়ার হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু

গাজায় যুদ্ধের ১০০০ দিন, ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় যুদ্ধের ১০০০ দিন, ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলে ২০২৩ সালের সাত অক্টোবর হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের শুরু করা সামরিক অভিযান ও যুদ্ধের এক হাজার দিন পূর্ণ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি, অব্যাহত হামলা এবং তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৩ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন। যুদ্ধের এক হাজারতম দিনে গাজার পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণ আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৫০ জনের বেশি নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ। এদিকে বুধবার জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, গাজায় ইসরায়েল যেভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়াচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের জীবন আরো বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় স্থলভাগে কোনো স্পষ্ট সীমানা চিহ্ন নেই, সেখানে বেসামরিক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা বেশি।

গাজার সব সীমান্ত পারাপারের পথ এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অথবা বন্ধ আছে। এর ফলে পুরো গাজা এখনো কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এই অবরোধের কারণে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রবেশ করতে পারছে না। গত মাসে জাতিসংঘ জানিয়েছিল, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য মৌলিক উপকরণ গাজায় পৌঁছাতে না পারায় এখনো ১৭টি হাসপাতাল পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। এতে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

দীর্ঘ এক হাজার দিনের যুদ্ধের কারণে গাজার মানুষের জীবন আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক ফিলিস্তিনি জানিয়েছেন, তারা আর এই পরিস্থিতি সহ্য করতে পারছেন না। লাখো মানুষ এখন বিশাল তাঁবু শিবিরে বসবাস করছেন। সেখানে নিরাপদ পানি, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার তীব্র সংকট রয়েছে। আবার অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বোমায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই বসবাস করছে। গত বছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আগের আশঙ্কার পর গাজা সিটিতে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে খাদ্যসংকট আরো প্রকট হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়ে আসছে।

তবে গাজায় বেসামরিক কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলের সামরিক সংস্থা কোগাত এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য, গাজায় যে পরিমাণ খাদ্য প্রবেশ করছে, তা সেখানকার মানুষের পুষ্টির প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।
 

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সোমালিল্যান্ডের নতুন পদক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সোমালিল্যান্ডের নতুন পদক্ষেপ

সোমালিল্যান্ডের মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতিক্রমে ‘সোমালিল্যান্ড-ইসরায়েল কৌশলগত সহযোগিতা ঘোষণাপত্র’ অনুমোদন করেছে। গত জুনে ইসরায়েল সফরের সময় সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সহযোগিতা জোরদারের ভিত্তি তৈরি হবে। এতে আরো বলা হয়, ইসরায়েলই প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

 

 

১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সোমালিল্যান্ড নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলের এই স্বীকৃতির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ এডেন উপসাগরে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ইরান ও তাদের আঞ্চলিক মিত্র, বিশেষ করে হুথিদের প্রভাব মোকাবেলা করা।

সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ইসরায়েলি হুমকি, জাতিসংঘকে চিঠি দিল ইরান

অনলাইন ডেস্ক
সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ইসরায়েলি হুমকি, জাতিসংঘকে চিঠি দিল ইরান
ছবি : রয়টার্স

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যার বিষয়ে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে ইরাভানি বলেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের এই হুমকি ইরানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি ‘পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের নীতির’ অংশ।

তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অবৈধ আগ্রাসন, রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা এবং এসব কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও সহযোগিতা এই নীতিরই অংশ। ইরাভানি আরো বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইসরায়েল দায়মুক্তির সুযোগ পাচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেবে তেহরান।

চিঠিতে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতা দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করেছে। এর ফলে ইসরায়েল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। 

এদিকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের জন্য দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ছয় দিনব্যাপী এই কর্মসূচি ইরানের পাঁচটি শহরের পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকের দুটি শহরেও অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা নামাজ কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে। সোমবার তেহরানের রাজপথে জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র শহর কুমে। পরে ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরেও শোকানুষ্ঠান হবে।

সবশেষে ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে এনে তার জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে। শেষকৃত্যে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এতে দেড় থেকে দুই কোটি শোকাহত মানুষ উপস্থিত হতে পারেন। এ উপলক্ষে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও এর আগে দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ইউক্রেনে রাতভর রুশ ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ১০

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনে রাতভর রুশ ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ১০
ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহর কর্তৃপক্ষ। হামলায় আহত হয়েছেন আরো অনেকে, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণে ভবন কেঁপে ওঠে। বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, হামলায় হতাহতের সংখ্যা 'উল্লেখযোগ্য'। তিনি জানান, রাশিয়ার লক্ষ্য ছিল আবাসিক এলাকা, যেখানে সাধারণ মানুষ বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ আবারও ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে তিনি জানান। 

হামলায় শহরের একাধিক জায়গায় আগুন লাগে। একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে একজন গুরুতর আহত হন। প্রধান সড়কের পাশে একটি হোটেলেও আগুন ধরে যায়। দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। রাতভর আকাশে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার চেষ্টা চলতে থাকে। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর কেঁপে ওঠে। হামলার পর সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ, পুড়ে যাওয়া গাড়ি ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখা যায়। কিছু জায়গায় বিস্ফোরণের কারণে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, মস্কো থেকে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন রুশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাম্প্রতিক ইউক্রেনীয় হামলার জবাবে তারা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেছে। এসব হামলার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেন, তার দেশ জ্বালানির সংকটে পড়েছে।তবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলহা স্টেফানিশিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এটি ছিল কিয়েভবাসীর জন্য আরেকটি ভয়াবহ রাত। অনেক মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শহরের বিভিন্ন জেলায় আগুন লাগে এবং আবাসিক ভবনসহ বেসামরিক স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর এটি ছিল ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রথম বড় আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। এর আগে রুশ গণমাধ্যম জানায়, রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, মস্কো নতুন করে বড় হামলার পরিকল্পনা করছে। তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। 

নিরাপত্তাজনিত কারণে পোল্যান্ডও সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। দেশটি জানায়, এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং আকাশসীমা নিরাপদ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পোল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত গুরুত্ব পাচ্ছে। ন্যাটো সামরিক জোটের আর্টিকেল ৫ অনুযায়ী যেসব দেশ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তারা একে অপরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে- যদি কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হয়, তাহলে সেটাকে পুরো ন্যাটো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

যুদ্ধের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রগতি কিছু এলাকায় বেড়েছে। সম্প্রতি রুশ বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকায় অগ্রসর হয়েছে। শহরটি ওই অঞ্চলে ইউক্রেনের হাতে থাকা শেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলোর একটি। মস্কো কোস্তিয়ানতিনিভকার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে পুরো দনবাস অঞ্চলে প্রবেশের পথ খুলে যাবে। এদিকে ইউক্রেনের সামরিক কমান্ডাররা বলছেন, এ বছর তারা যতটা এলাকা হারিয়েছেন, তার চেয়ে বেশি এলাকা পুনর্দখল করেছেন। এতে রুশ সীমান্ত থেকে দখল করা ক্রিমিয়া পর্যন্ত মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ রসদ সরবরাহের পথ ব্যাহত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাস ধরে যুদ্ধের সামনের রেখায় বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও দুই পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার বড় অংশ ২০২২ সালের আগ্রাসনের প্রথম দিকেই দখল করা করা হয়েছিল।